বাড়ি বাণিজ্য সংবাদ ১ লাখ ইএফডি কিনবে এনবিআর ,৩১৭ কোটি টাকায়

১ লাখ ইএফডি কিনবে এনবিআর ,৩১৭ কোটি টাকায়

6
0

ভ্যাট ফাঁকি রোধে আধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এরইমধ্যে ১০ হাজার ইএফডি ক্রয়ের আদেশ দেয়া হয়েছে। এভাবে ক্রমান্বয়ে ৩১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে এক লাখ ইএফডি কেনা হবে বলে এনবিআর সূত্রে জানা গেছে।এ বিষয়ে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক সৈয়দ মুশফিকুর রহমান বলেন, প্রতিটি ইএফডি মেশিন কিনতে প্রায় ২০ হাজার টাকা পড়বে। এছাড়া মেশিনকে সফটওয়ারের সাথে সংযোগ ও ট্রেনিং বাবদ ৩১৫ থেকে ৩১৬ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এর মধ্যে মেশিন আমদানি বাবদ ২৭ শতাংশ ভ্যাট ও ট্যাক্স রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এনবিআরের এক কর্মকর্তা জানান, প্রথমে ১০ হাজার ইএফডি মেশিন সরবরাহ করা হবে। মেশিন পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যদি আমাদের চাহিদামতো ভালো হয় তাহলে আরও ১০ হাজারের অর্ডার দেওয়া হবে। পর্যায়ক্রমে এক লাখ মেশিন আনা হবে। চীনের এসজেডজেডটি কোম্পানি এই মেশিন সরবরাহ করবে। এ মাসের মধ্যেই ইএফডি মেশিন চলে আসবে বলে তিনি আশা করেন।

তিনি জানান, যেসব প্রতিষ্ঠান সর্বোচ্চ ভ্যাট প্রদান করে প্রথমে তাদের এ মেশিন দেওয়া হবে। এর জন্য ভ্যাট কমিশনারেটের কাছে প্রতিষ্ঠানের তালিকা চেয়েছে এনবিআর। নতুন ভ্যাট আইন অনুযায়ী, যেসব ব্যবসায়ীর বার্ষিক লেনদেন ৫০ লাখ টাকার বেশি, তাদের অবশ্যই এই ইএফডি ব্যবহার করতে হবে।

মূলতঃ রেস্তোরাঁ ও ফাস্টফুড, মিষ্টান্নভাণ্ডার, আবাসিক হোটেল, কমিউনিটি সেন্টার, অভিজাত শপিং সেন্টারের সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, পোশাক বিক্রির কেন্দ্র ও বুটিক শপ, বিউটি পার্লার, ইলেকট্রনিক সামগ্রীর বিক্রয় কেন্দ্র, আসবাবপত্রের বিক্রয় কেন্দ্র, ডিপার্টমেন্টাল স্টোর ও জেনারেল স্টোর, সুপার শপ, বড় ও মাঝারি পাইকারি ও খুচরা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এবং স্বর্ণ ও রুপার প্রতিষ্ঠানে ইএফডি মেশিন দেয়া হবে।

আধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস ইএফডি সম্পর্কে ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের এক কর্মকর্তা জানান, ইএফডি মেশিন টেম্পারিং করার সুযোগ নেই। এনবিআরে সেন্ট্রাল সার্ভার থাকবে। একজন ভোক্তা কেনাকাটার পর চালান চাইবে। ইএফডি মেশিনে ভ্যাট ইনপুট দেওয়ার পর সার্ভার থেকে এনওসি (অনুমতি) ছাড়া চালান বের হবে না। ফলে ব্যবসায়ী চাইলেও এ মেশিন থেকে ডেটা মুছে ফেলতে পারবেন না। এক্ষেত্রে প্রতিটি ভোক্তাকে ভ্যাট বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কেনাকাটার পর চালান চেয়ে নিতে হবে।

তিনি জানান, যেসব ব্যবসা কেন্দ্রে ইসিআর ও পিওএস মেশিন ব্যবহার করা হচ্ছে, সেগুলো তুলে দিয়ে ইএফডি মেশিন দেওয়া হবে। ইএফডি মেশিনে ভ্যাট ফাঁকির সুযোগ যেমন নেই, তেমনি ব্যবসায়ীদের হয়রানিরও সুযোগ নেই। এই যন্ত্রটি এনবিআরের সার্ভারে সরাসরি যুক্ত থাকায় প্রতিটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের প্রতিদিনকার বিক্রির তথ্য সরাসরি এনবিআরের সার্ভারে চলে আসবে। ইএফডি ব্যবহার না করলে আইন অনুযায়ী ২০ থেকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হবে। একই ধরনের অপরাধ পুনরায় করলে এনবিআর ওই প্রতিষ্ঠানের ব্যবসা পরিচিতি নাম্বার (বিআইএন) কেড়ে নেবে বলেও তিনি জানান।

এ বিষয়ে এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, ইএফডি মেশিনে ভ্যাট আদায় সহজ হবে। মেশিন নষ্ট হলে ব্যবসায়ী ও ভ্যাট কর্মকর্তাদের দায়ী করা হবে। মেশিন নষ্ট হলে ব্যবসায়ীদের নিজের পয়সায় কিনে নিতে হবে। তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের সংখ্যা বেশি। সবাইকে মেশিন দিতে একটু সময় লাগবে। প্রাথমিকভাবে আমরা ১০ হাজার মেশিন দেব। আগামী দুই বছরের মধ্যে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোয় ১০ লাখ ইএফডি মেশিন বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

উল্লেখ্য, চলতি অর্থবছরে রাজস্ব আয়ের নির্ধারিত মাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে আয়, লাভ ও মূলধনের ওপর কর থেকে আসবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৯১২ কোটি টাকা এবং মূসক থেকে আসবে ১ লাখ ২৩ হাজার ৬৭ কোটি টাকা।

এছাড়া, সম্পূরক কর থেকে ৪৮ হাজার ১৫৩ কোটি, আমদানি শুল্ক থেকে ৩৬ হাজার ৪৯৮ কোটি, রপ্তানি শুল্ক থেকে ৫৪ কোটি, আবগারি শুল্ক থেকে ২ হাজার ২৩৯ কোটি এবং অন্যান্য কর থেকে ১ হাজার ৬৭৭ কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নেয়া হয়েছে।