বাড়ি শেয়ারবাজার পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে বিআরটিসি

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে বিআরটিসি

2
0

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি)। তারা এক হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হবে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা যায়।

সূত্র মতে, এক হাজার কোটি টাকার মূলধন নিয়ে পুঁজিবাজারে আসছে বিআরটিসি। এই মূলধনের জন্য ১০ টাকা অভিহিত মূল্যে একশ’ কোটি সাধারণ শেয়ার ইস্যু করা হবে। এবং বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) বা বিশেষ সাধারণ সভায় (ইজিএম) সিদ্ধান্ত নিয়ে অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বাড়ানো যাবে। এমন প্রস্তাবনা রেখে ‘বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশন (বিআরটিসি) আইন ২০১৯’-এর খসড়া প্রণয়ন করেছে সরকার আজ সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার নিয়মিত বৈঠকে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য উত্থাপন করা হয়। এবং খসড়াটি মন্ত্রিসভায় পাশ করা হয়।

সড়ক পরিবহন বিভাগের এক কর্মকর্তা এ বিষয়ে বলেন, খসড়া আইনে করপোরেশনের পরিশোধিত মূলধনের পরিমাণ বার্ষিক সাধারণ সভা বা বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে নির্ধারণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে তা কোনো ভাবেই অনুমোদিত মূলধনের চেয়ে বেশি হবে না। পরিশোধিত মূলধনের শেয়ারের মধ্যে নূ্যনতম ৫১ শতাংশ শেয়ার সরকারের মালিকানায় থাকবে। অবশিষ্ট শেয়ার পরিচালনা পর্ষদের সিদ্ধান্ত ও সরকারের অনুমতি নিয়ে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রি করা যাবে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ থেকে খসড়া আইনটি চূড়ান্ত করা হয়েছে। আইনটিতে অনুমোদিত ও পরিশোধিত মূলধনের প্রতিটি শেয়ারের অভিহিত মূল্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) আদেশ-নির্দেশনা অনুসারে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। সেই সাথে রাষ্ট্রীয় সেবা পরিবহন খাতে দক্ষ জনবল তৈরি ও যানবাহন মেরামত সুবিধায় সরকার আরও সম্প্রসারণ করার কথা বলা হয়েছে।

খসড়া আইনে করপোরেশনের নিজস্ব আয় বিষয়ে বলা হয়েছে, সরকারের দেওয়া মঞ্জুরি, অনুদান ও ভর্তুকিসহ সরকারের পূর্বানুমোদন নিয়ে কোনো অধিদপ্তর, কর্তৃপক্ষ, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের দেওয়া অনুদান দিয়ে তহবিল গঠন করা যাবে। বৈদেশিক ঋণ বা অনুদান, অভ্যন্তরীণ ঋণ ও স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি বিক্রি করে সেই অর্থসহ বৈধ উৎস থেকেও করপোরেশন তহবিলের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে পারবে।

খসড়া আইনে কার্যাবলি বিষয়ে বলা হয়েছে যে, করপোরেশন সারাদেশে আন্তঃরাষ্ট্রীয় ও আঞ্চলিক যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ছাড়াও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, কেন্দ্র স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। প্রয়োজন অনুযায়ী যানবাহন মেরামতের কারখানাও স্থাপন ও পরিচালনা করতে পারবে। পরিবহন সুবিধা দেওয়ার লক্ষ্যে দেশে-বিদেশে টার্মিনাল, ডিপো ও যাত্রী ছাউনিসহ অন্যান্য অবকাঠামোও সৃষ্টি করতে পারবে। ইজারার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নীতিমালার ভিত্তিতে প্রয়োজনে অস্থায়ীভাবে যাত্রীবাহী বাস বা পণ্যবাহী ট্রাক পরিচালনা করতে পারবে করপোরেশন।

আইনে করপোরেশন পরিচালনার জন্য একটি পরিচালনা পর্ষদ গঠনের কথা বলা হয়েছে। এই পরিষদে সভাপতি হবেন করপোরেশনের চেয়ারম্যান। সদস্য থাকবেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, অর্থ বিভাগ, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, জননিরাপত্তা বিভাগ, নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়, ঢাকা যানবাহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষের একজন করে পরিচালক, সওজের একজন তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী, বিআরটিএর একজন পরিচালক, করপোরেশনের অর্থ ও হিসাব বিভাগ এবং কারিগরি বিভাগের একজন করে পরিচালক, প্রত্যেক প্রশাসনিক বিভাগ থেকে একজন মনোনীত বেসরকারি সদস্য (এর মধ্যে নূ্যনতম তিনজন নারী)। করপোরেশনের প্রশাসন ও অপারেশনের পরিচালক পরিষদের সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। তাছাড়া শেয়ার হোল্ডারদের পক্ষ থেকে নির্বাচিত পরিচালক থাকবেন। পর্ষদ নির্ধারিত সময় ও স্থানে প্রতি বছর অন্তত চারটি সভা করবে। এছাড়া প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োজিত বেসামরিক কর্মচারীদের মধ্য থেকে সরকার চাকরির শর্তসহ একজন চেয়ারম্যান নিয়োগ দেবে।

আরও বলা হয়েছে, সড়ক পরিবহন আইনে যা-ই থাকুক, বিআরটিসির বাস ও ট্রাকবহরের মোটরযানের জন্য কোনো বীমা করতে হবে না। তবে করপোরেশনের কর্মচারী এবং প্রশিক্ষণের জন্য ব্যবহূত মোটরযানের জন্য মোটরযান আইন অনুযায়ী বীমা করতে হবে। করপোরেশনের কোনো যান দুর্ঘটনায় পড়লে উপযুক্ত আদালতের আদেশ বা পরিচালনা পরিষদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী করপোরেশন ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বা নেওয়ার বিষয়টি নিষ্পত্তি করবে।