বাড়ি আইন ও বিচার জয়-পরাজয়, আনন্দ-বিরহ

জয়-পরাজয়, আনন্দ-বিরহ

14
0

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত হয় ৭৬তম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার। এই পুরস্কারের আসর উপলক্ষে এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছিলেন হলিউডের একঝাঁক তারকা। অনুষ্ঠানে জয়জয়কার ছিল গ্রিন বুক, রোমা ও বোহিমিয়ান রাপসোডি ছবির। গোল্ডেন গ্লোব দিয়েই শুরু হয়ে গেল হলিউডের পুরস্কারের মৌসুম। রেসের ময়দানে যেমন হুইসেল বাজিয়ে দৌড়ে নেমে পড়েন খেলোয়াড়েরা, হলিউডও তেমন গোল্ডেন গ্লোব উত্তেজনার মধ্য দিয়ে বাফটা, অস্কার আর এমির জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করল। আসুন আজ জেনে নিই এবারের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের কিছু টুকরো গল্প, যা দেবে জয়-পরাজয় আর আনন্দ-বিরহের স্বাদ। এসব নিয়ে লিখেছেন

যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে গত রোববার রাতে অনুষ্ঠিত হয় ৭৬তম গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার। এই পুরস্কারের আসর উপলক্ষে এক ছাদের নিচে জড়ো হয়েছিলেন হলিউডের একঝাঁক তারকা। অনুষ্ঠানে জয়জয়কার ছিল গ্রিন বুক, রোমা ও বোহিমিয়ান রাপসোডি ছবির। গোল্ডেন গ্লোব দিয়েই শুরু হয়ে গেল হলিউডের পুরস্কারের মৌসুম। রেসের ময়দানে যেমন হুইসেল বাজিয়ে দৌড়ে নেমে পড়েন খেলোয়াড়েরা, হলিউডও তেমন গোল্ডেন গ্লোব উত্তেজনার মধ্য দিয়ে বাফটা, অস্কার আর এমির জন্য প্রস্তুত হতে শুরু করল। আসুন আজ জেনে নিই এবারের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারের কিছু টুকরো গল্প, যা দেবে জয়-পরাজয় আর আনন্দ-বিরহের স্বাদ। এসব নিয়ে লিখেছেন আদর রহমান

বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ান বেল

বিজয়ী ক্রিশ্চিয়ান বেল ‘শয়তানকে ধন্যবাদ’
কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে বক্তব্য দিতে গিয়ে এখন আলোচনা আর সমালোচনা— দুইয়ের শীর্ষেই আছেন ক্রিশ্চিয়ান বেল। তিনি ভাইস ছবির জন্য জিতেছেন সেরা অভিনেতা (মিউজিক্যাল/কমেডি) বিভাগে গোল্ডেন গ্লোব। ছবিটি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডিক চেনির জীবনী অবলম্বনে নির্মিত। এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্যই বেল জিতেছেন গ্লোব, এগিয়ে আছেন অস্কার দৌড়েও। কিন্তু ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া বক্তৃতা দিতে গিয়ে পড়েছেন বিপাকে। সন্দেহ নেই, ডিক চেনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ইতিহাসে এক বিতর্কিত নাম। তাই মঞ্চে পুরস্কার হাতে নিয়েই বেল বলেন, ‘শয়তানকে ধন্যবাদ, সে আমাকে এই চরিত্রে অভিনয়ের অনুপ্রেরণা জুগিয়েছে।’ এ কথা বলেই ফেঁসে যান তিনি। ডিক চেনির সঙ্গে শয়তানের তুলনা করা হয়েছে, এমন অভিযোগ তুলে ফুঁসে উঠেছে চেনির পরিবার।

স্ত্রী ক্যাথরিন জেটা জোনসের সঙ্গে সেরা অভিনেতার গোল্ডেন গ্লোবজয়ী মাইকেল ডগলাস

স্ত্রী ক্যাথরিন জেটা জোনসের সঙ্গে সেরা অভিনেতার গোল্ডেন গ্লোবজয়ী মাইকেল ডগলাসপুরান চাল ভাতে বাড়ে

এ বছর ছিল পুরোনোদের জয়জয়কার। সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা) বিভাগে জয়ী হয়েছেন ৭১ বছর বয়সী গ্লেন ক্লোজ (দ্য ওয়াইফ ছবির জন্য)। সেরা অভিনেতা (মিউজিক্যাল/কমেডি) হয়েছেন মাইকেল ডগলাস (দ্য কমিনস্কি মেথড), তাঁর বয়স ৭৪। দুজনই নিজ নিজ ছবিতে অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্রে। মঞ্চে যখন তাঁরা ওঠেন পুরস্কার গ্রহণ করতে, তখন বয়সের মতোই তাঁদের জন্য দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া হাততালিটাও ছিল একটু বেশি বেশিই। এর মাধ্যমেই বোঝা যায়, শিল্পীর বয়স নেই।

মার্কিন অভিনেত্রী ডি’আরকি কার্ডেনের হাতে ‘টাইমস আপ’ লেখা ব্যান্ড

মার্কিন অভিনেত্রী ডি’আরকি কার্ডেনের হাতে ‘টাইমস আপ’ লেখা ব্যান্ডএকটুখানি ‘মি টু’ প্রভাব ছিল

গত বছরের গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারটি হলিউডের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে। কারণ, কর্মক্ষেত্রে নারীর সঙ্গে ঘটে যাওয়া যৌন হয়রানির প্রতিবাদে সে বছর সবাই এই আসরে পরে এসেছিলেন কালো পোশাক। এ বছর তেমনটা ঘটেনি আর। স্বাভাবিকত্ব ফিরে এসেছে এবার লালগালিচায়। কিন্তু হাতে গোনা দুয়েকজন এখনো ‘মি টু’র প্রভাব থেকে বের হতে পারেননি। মার্কিন অভিনেত্রী ডি’আরকি কার্ডেন এ বছরও কমলারঙা গাউন আর ক্লাচের সঙ্গে ‘টাইমস আপ’ লেখা একটা ব্যান্ড হাতে করে নিয়ে আসেন। গত বছরের অস্কার আসরে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গড়া তহবিল গঠনের উদ্যোগ হিসেবে ‘টাইমস আপ’ কার্যক্রম শুরু হয়। তা ছাড়া গোল্ডেন গ্লোব মঞ্চে সেরা পার্শ্বচরিত্রে অভিনেত্রীর পুরস্কারজয়ী রেগিনা কিং বলেন, তিনি আগামী দুই বছর সেই সব সিনেমা ও সিরিজেই কাজ করবেন, যেখানে নারী ও পুরুষের মূল্যায়ন হবে সমান সমান।

গ্লোব নিরুত্তাপ

হলিউড ফরেন প্রেস অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার নিয়ে বিশ্বব্যাপী সব সময়ই খানিকটা উত্তেজনা থাকে। কারণ, অন্যান্য পুরস্কার আসরের তুলনায় এ আসরে সমসাময়িক রাজনৈতিক ইস্যু, বৈশ্বিক সংকট, বৈষম্য, দুর্যোগ আর সংকট নিয়ে কথা বলেন চলচ্চিত্র দুনিয়ার বড় বড় ব্যক্তি। কখনো মেরিল স্ট্রিপ তাঁর তীক্ষ্ণ বক্তব্য দিয়ে সমালোচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের, কখনোবা এই গ্লোবের মঞ্চে নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বৈষম্য আর হয়রানির গল্প শোনান অপরাহ উইনফ্রে। কিন্তু এবারের আসরটি ছিল সেই দিন থেকে নিরুত্তাপ। চারদিকে এত সংকট আর শঙ্কার পরও তারকারা এসব বিষয়ে এ বছর কোনো তর্ক-বিতর্ক করেননি। পুরস্কার গ্রহণ করে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন, এরপর পার্টি করে বাড়ি চলে গেছেন।কিছু তথ্য গোল্ডেন গ্লোবের
সর্বোচ্চ মনোনয়ন
সর্বোচ্চ ৩১ বার মনোনয়ন পেয়ে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কারে ইতিহাস গড়েছেন অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপ। ১৯৮২ সালে দ্য ফ্রেঞ্চ লেফটেন্যান্ট উইম্যান দিয়ে শুরু হয়েছিল তাঁর মনোনয়ন যাত্রা। এরপর বিভিন্ন বছর সেরা অভিনেত্রী ও পার্শ্বচরিত্রে সেরা অভিনেত্রীর বিভাগে মনোনীত হয়েছেন তিনি। জিতেছেন আটবার গোল্ডেন গ্লোব। এমনকি ঘরে তুলেছেন এ আসরের সর্বোচ্চ সম্মাননা সেসিল বি ডিমিল অ্যাওয়ার্ড।

প্রথম গোল্ডেন গ্লোব
গোল্ডেন গ্লোব এখন হয়তো আপনি ইচ্ছা করলেই দেখতে পাচ্ছেন টিভি পর্দা, ল্যাপটপ বা মুঠোফোনে। তবে ১৯৬৩ সালের আগে সেটি একেবারেই সম্ভব ছিল না। ১৯৫৮ সালে গোল্ডেন গ্লোব শুরু হয়। তবে ১৯৬৩ সালের আগ পর্যন্ত এটি লস অ্যাঞ্জেলেসেই প্রচারিত হতো।

উপস্থাপকহীন গোল্ডেন গ্লোব

গোল্ডেন গ্লোবে কে উপস্থাপনা করলেন এবার, সেটা নিয়ে ভাবছেন? মজার ব্যাপার হলো, একটা সময় টানা ১৪ বছর গোল্ডেন গ্লোবের কোনো উপস্থাপক ছিল না। ১৯৯৫ সালে জন ল্যারাকুয়েট ও জ্যানিন টার্নার গোল্ডেন গ্লোব উপস্থাপনা করেন। এরপর থেকে উপস্থাপক দিয়ে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনার রীতি একটানা চলতে থাকে।

ত্রিভুজ জয়
১৯৮৯ সালের কথা। এই বছর সেরা অভিনেত্রী (ড্রামা) শাখায় এক বা দুজন অভিনেত্রী নন, পুরস্কার জেতেন একবারে তিনজন অভিনেত্রী—সিগোর্নি ওয়েভার, জোডি ফস্টার ও শার্লি ম্যাকলেইন। এরপর এমন ত্রিভুজ জয়ের ঘটনা আর কখনো গোল্ডেন গ্লোব মঞ্চে ঘটেনি।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here